নিজস্ব প্রতিবেদক লক্ষ্মীপুর, রায়পুর:
লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন মসজিদে বছরের পর বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেও অধিকাংশ ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়মিত বেতন-ভাতার আওতার বাইরে রয়েছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, নামাজ পরিচালনা, আজান, শিশুদের কোরআন শিক্ষা থেকে শুরু করে সামাজিক নানা পরামর্শমূলক ভূমিকা পালন করলেও তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটেনি।
জেলা সূত্র জানায়, সরকারি তালিকাভুক্ত প্রায় ৩ হাজার ৪০০ এর বেশি মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব ও খাদেম মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি ধর্মীয় কর্মী কাজ করছেন। তবে জেলার ছয়টি মডেল মসজিদ ছাড়া অন্য কোথাও সরকারিভাবে নির্ধারিত বেতন কাঠামো নেই। তিনটি মডেল মসজিদে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলেও বাকি তিনটির নির্মাণাধীন কাজ শেষ হলে সীমিতসংখ্যক কর্মী সরকারি বেতনের সুযোগ পাবেন।
অর্ধশতাব্দীর কাছাকাছি সময়, তবু অনিশ্চিত আয়
রায়পুর উপজেলার এক গ্রামীণ মসজিদের ইমাম জয়নাল আবেদীন হুজুর জানালেন, প্রায় পঁচিশ বছর ধরে ইমামতি করলেও তার আয় নির্দিষ্ট নয়। শুরুতে সামান্য সম্মানী পেলেও সময়ের সঙ্গে তা কাঠামোবদ্ধ হয়নি। ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে তাকে অনিশ্চিত আয়ের উপর নির্ভর করে চলতে হচ্ছে।
আরেকজন ইমাম তৈহিদুল ইসলাম হুজুরের ভাষ্য, মাসিক যে অর্থ পান তা ন্যূনতম পারিবারিক ব্যয় মেটাতেই অপর্যাপ্ত। বাজারদর বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় প্রতিনিয়ত ঋণ বা অতিরিক্ত কাজের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মুয়াজ্জিনি করেও বাড়তি উপার্জনের সন্ধানে
হায়দরগঞ্জ এলাকার এক মুয়াজ্জিন কাশেম আলী জানান, মসজিদ থেকে প্রাপ্ত সম্মানী দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব না হওয়ায় তিনি ছোট একটি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। নামাজের সময়সূচির সঙ্গে মিলিয়ে দোকান সামলাতে হয় তাকে। সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও খাদ্যব্যয় মেটাতে গিয়ে মাস শেষে প্রায়ই ঘাটতি থেকে যায়।
তাদের সবার একই দাবি; রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও ভাতার ব্যবস্থা।
মুসল্লি ও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান পরিচালনাই করেন না; তারা সামাজিক ঐক্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই তাদের জন্য সম্মান জনক মাসিক ভাতা বা নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন সময়ের দাবি।
উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, মডেল মসজিদে কর্মরতদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদের সহায়তায় বিশেষ ভাতা বা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনাধীন।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর জেলা কার্যালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, জেলার সাধারণ মসজিদগুলোর ইমাম-মুয়াজ্জিনদের অন্তর্ভুক্তির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাদানের মাধ্যমে সমাজকে পথনির্দেশনা দিয়ে আসা এই শ্রেণির মানুষদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে তা কেবল তাদের পরিবার নয়, সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply