অপরাজের কন্ঠ ডেস্ক : শীতের মিষ্টি রোদে হরেক রকমের পিঠায় লক্ষ্মীপুরে হয়ে গেলো শিক্ষার্থীদের বর্ণিল পিঠা উৎসব। তিন শতাধিক পিঠার পসরা সাজিয়ে শতাধিক স্টল নিয়ে বসে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। দারুণ এ আয়োজন দেখতে ও পিঠার স্বাদ নিতে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ছিল উপচেপড়া ভিড়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে লক্ষ্মীপুর ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এ আয়োজন করা হয়। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ পিঠার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে শীতের মৌসুমে এ আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।
ফুলে সজ্জিত ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক জনাব মো: জসীম উদ্দিন।
ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ জনাব রফিকুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ জনাব হাবিবুর রহমান সবুজসহ অনেকেই। পরে তারা পিঠার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।
পিঠা উৎসবে ঘুরে সুকন্যাদের পিঠার দোকান, নবান্নের পিঠা ঘর, পিঠার সমাহার, ঢেঁকির বৈঠক খানা, নোয়া চাইলে নোয়া হিডা, পিঠা আড্ডা, টুনটুনিদের পিঠা ঘর ও পিঠা অরণ্যসহ বিভিন্ন নামে শতাধিক দোকান দেখা যায়।
এতে হৃদয় হরণ, পদ্মার ইলিশ পিঠা, পাটি সাপটা, পান্তুয়া, জেলি কেক, বরফি, দুধ চিতল, ভাপা পিঠা, নকশি পিঠা, ঝুনঝুনি পিঠা, মুগ পাকন, ক্ষীর পাটি সাপটা, নারিকেল বেলি পিঠা, ডাল পাকন, শুকনা পিঠা, লতা পিঠা, শামুক পিঠা, সাকুর পিঠাসহ তিন শতাধিক পিঠা দেখা গেছে। একেকটির স্বাদ একেক রকম। একেকটি দোকানে শতাধিক ধরনের পিঠা ছিল।
ছাত্র-ছাত্রী কয়েকজন বলেন, এটি আমাদের জন্য এক অন্যরকম উৎস। পিঠাগুলো আমরা মাসহ অন্যদের সহযোগিতা বানিয়েছি। এ আয়োজনের মাধ্যমে পিঠাগুলো বানানো শিখলাম। পিঠার নামও শিখতে পেরেছি। প্রিয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ পাওয়াটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পিঠা উৎসব দেখতে আসা কয়েকজন বলেন, পিঠা উৎসবের খবর পেয়ে আমরা দেখতে এসেছি। প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানটি এমন আয়োজন করে থাকে।
এবারের আয়োজনটি মনমুগ্ধকর ছিল। আমরা কয়েকটি পিঠা খেয়েছি। মজার খাবার ছিল। পরিবারের জন্য কিনেও নিয়েছি।
প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ জনাব হাবিবুর রহমান সবুজ বলেন, এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শীতকালে আমরা পিঠা উৎসবের আয়োজন করে আসছি। সবগুলো পিঠা অভিভাবকদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বানিয়েছে। এবার প্রতিটি স্টলেই নতুন নতুন ধরনের পিঠা দেখছি। আয়োজনটি শিক্ষার্থীরা দারুণভাবে উপভোগ করছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষজনের উপস্থিতি সরব রয়েছে। প্রতি বছরই এই ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক জনাব মো: জসীম উদ্দিন বলেন, পিঠা উৎসব অসাধারণ একটি আয়োজন ছিল। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধারণে এ আয়োজন প্রশংসনীয়। এ উৎসবটি পুরনো স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেকটি স্টল ঘুরে দেখেছি। সত্যিই অভিভূত। পিঠা উৎসবের মাধ্যমে গ্রামবাংলার সেই হারানো ঐতিহ্য আবারও শহরে ফিরে আসবে এমনটিই মনে করেন তিনি।
Leave a Reply